| ফল ঘোষণার সময় অনুপস্থিত ছাত্রদলের এজিএস প্রার্থী |
📰 চাকসু নির্বাচনে বিজয়ী হয়েও ফল ঘোষণায় অনুপস্থিত ছাত্রদলের প্রার্থী তৌফিক
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ঘোষিত হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের ফলাফল। বুধবার গভীর রাত পেরিয়ে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু ফল ঘোষণার সেই মুহূর্তে দেখা যায় এক অস্বাভাবিক দৃশ্য— নিজ দলের বিজয় নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও উপস্থিত ছিলেন না ছাত্রদলের এজিএস পদে বিজয়ী প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। অন্যদিকে শিবির–সমর্থিত ‘সম্প্রীতি শিক্ষার্থী জোট’-এর প্রার্থীরা অডিটোরিয়ামজুড়ে আনন্দে ফেটে পড়েন, একে অপরকে আলিঙ্গন করেন এবং বিজয়ের স্লোগান দেন।
ফল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাইক্রোফোনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করছিলেন। উপস্থিত শিক্ষক ও সাংবাদিকদের বরাতে জানা গেছে, তখন অডিটোরিয়ামে ছাত্রদল–সমর্থিত কোনো প্রার্থী বা সমর্থক উপস্থিত ছিলেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার দেশ প্রতিনিধি আতিকুর রহমান বলেন, “ভোরের আলো ফুটতেই সম্প্রীতি প্যানেলের বিজয়ীরা একে একে অডিটোরিয়ামে আসেন। কিন্তু ছাত্রদল–সমর্থিত কোনো প্রার্থীকে দেখা যায়নি। এমনকি তাদের বিজয়ী প্রার্থীও আসেননি। পরিবেশটা ছিল একতরফা উচ্ছ্বাসে ভরা।”
সম্প্রীতি প্যানেলের নেতারা বলেন, এই অনুপস্থিতিই প্রমাণ করে ছাত্রদলের সংগঠনিক দুর্বলতা। তাদের দাবি, মাঠের রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন একটি সংগঠনের হয়ে লড়লেও তারা (সম্প্রীতি) দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়ে প্রতিটি হলে ও অনুষদে সংগঠিতভাবে কাজ করেছেন।
জিএস পদে বিজয়ী সাঈদ বিন হাবিব বলেন, “আমরা সারারাত হলভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ করেছি। আমাদের প্রত্যেক প্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করেছে। আমাদের বিজয় এসেছে ঐক্য ও প্রস্তুতির কারণে। ছাত্রদল ভেবেছিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়েই জয় সম্ভব— সেটাই তাদের ভুল।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এজিএস পদে ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থীর জয়টি প্রতীকী হলেও, তার অনুপস্থিতি ছাত্রদলের সাংগঠনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। তাদের ভাষায়, “একটি নির্বাচনে জয়লাভের পরও যদি প্রার্থী ফল ঘোষণার সময় উপস্থিত না থাকেন, সেটি রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর।”
ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে ছাত্রদলের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, “ফলাফল ঘোষণার সময় প্রোভিসিকে অবরুদ্ধ করা নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। আমাদের প্রার্থীও সে কারণে সেখানে উপস্থিত হতে পারেননি।”
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা জানিয়েছেন, তখন ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং ফল ঘোষণায় কোনো বাধা ছিল না। একই সময় প্রশাসনিক ভবনের সামনে সম্প্রীতি প্যানেলের বিজয়ীরা মিষ্টি বিতরণ ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন। “চবি ফিরে পেয়েছে পুরনো দিন”— এমন স্লোগানও শোনা যায়।
সাধারণ শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, “ছাত্রদল ভেবেছিল জাতীয় রাজনীতির ঢেউয়ে ভেসে জয় পাবে। কিন্তু ক্যাম্পাসের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ফল ঘোষণার সময় তাদের কাউকে না দেখে মনে হয়েছে তারা নিজেরাও জানত, শিবির–সমর্থিত প্যানেলের সামনে টিকতে পারবে না।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘ এক যুগ পর অনুষ্ঠিত চাকসু নির্বাচনে মোট ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টিতে বিজয়ী হয়েছে শিবির–সমর্থিত ‘সম্প্রীতি শিক্ষার্থী ঐক্যজোট’।
বাকি এক পদ— এজিএস—এ জয় পেয়েছেন ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক, যার ফল ঘোষণার সময় অনুপস্থিতি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
📍 স্থান: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
🕓 সময়: বুধবার গভীর রাত – বৃহস্পতিবার ভোর
📢 সূত্র: উপস্থিত শিক্ষক, সাংবাদিক ও প্রশাসনিক সূত্র
No comments:
Post a Comment