| ছাত্রদলকে ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি’ বললেন শিবির নেতা |
📰 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সোহরাওয়ার্দী হলে ভোটের ফলাফল ঘোষণা ঘিরে উত্তেজনার এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ–উপাচার্য (প্রোভিসি) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার গভীর রাতে শুরু হয়ে টানা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এ অবরুদ্ধ অবস্থার ঘটনা ঘটে আইটি ফ্যাকাল্টিতে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, চাকসু নির্বাচনের সোহরাওয়ার্দী হলের ফলাফল ঘোষণার পর কিছু প্রার্থীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজনা সামাল দিতে প্রোভিসি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন সেখানে পৌঁছান। একপর্যায়ে ছাত্রদল–সমর্থিত কয়েকজন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা প্রোভিসিকে লক্ষ্য করে উত্তেজিত স্লোগান দিতে শুরু করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল সূত্র জানায়, পরে প্রোভিসিকে আইটি ফ্যাকাল্টির একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। রাত আড়াইটার দিকে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অধ্যাপক কামাল উদ্দিনকে নিরাপদে বের করে আনেন। তবে এ সময় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রোভিসিকে বের করে আনার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী অশালীন মন্তব্য ও গালিগালাজ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এভাবে একজন সিনিয়র শিক্ষককে অবরুদ্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্যাম্পাসে সহনশীলতার রাজনীতি ফিরতে শুরু করেছিল, কিন্তু এই ঘটনায় আমরা গভীরভাবে হতাশ।”
ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। বৃহস্পতিবার ভোরে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, “একটি ছাত্র সংগঠনের ধারাবাহিক গর্হিত আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। শিক্ষকদের সঙ্গে এমন আচরণের জন্য অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে। প্রতিটি ক্যাম্পাসে তারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠতে চলেছে। শিক্ষার্থীরা এ কারণেই ব্যালটের মাধ্যমে তাদের লাল কার্ড দেখাচ্ছে।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ এক যুগ পর অনুষ্ঠিত চাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘সম্প্রীতি শিক্ষার্থী জোট’ ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টিতে জয় পেয়েছে।
ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন ইব্রাহিম হোসেন রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব মুন্না — দুজনই সম্প্রীতি প্যানেলের।
অন্যদিকে একমাত্র এজিএস পদে জয় পেয়েছেন ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তার পর শিবির–সমর্থিত শিক্ষার্থীদের এমন একচেটিয়া বিজয় ক্যাম্পাসে নতুন এক শক্তির উত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের একক বিজয় যদিও প্রতীকী, তাদের আচরণ অতীতের সহিংস রাজনীতির ছায়া ফেরার আশঙ্কা তৈরি করছে।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “চবির রাজনীতি সব সময়ই জাতীয় রাজনীতির প্রতিফলন। এক সময় ছাত্রলীগের নামে যেমন দাপট ছিল, এখন ছাত্রদল সেই একই পথে হাঁটছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ব্যালটের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে, তারা এমন রাজনীতি চায় না।”
চবি প্রক্টরিয়াল বডির এক সদস্য জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “শিক্ষকদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। প্রশাসন এ বিষয়ে শূন্য সহনশীল নীতি অবলম্বন করবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার পর চবি রাজনীতির ভারসাম্যে নতুন পরিবর্তন আসছে। দীর্ঘ সময় পর শিবির–সমর্থিত শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন যেমন নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, তেমনি ছাত্রদলের আচরণ তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
📍স্থান: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
🕓 সময়: বুধবার গভীর রাত – বৃহস্পতিবার ভোর
📢 সূত্র: প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক সূত্র
No comments:
Post a Comment