| মাদরাসার ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ, প্রতিবাদে ঢাকা কলেজে বিক্ষোভ |
⚖️ ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা কালিয়াকৈরে মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভমিছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় একজন মাদ্রাসা ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে দ্বিতীয় দিনে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসা ও দ্রুত বিচারের দাবি নিয়ে রাজধানীর ঢাকা কলেজ এর শিক্ষার্থীরা শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বাদ জুমা ক্যাম্পাস থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি সাইন্সল্যাব হয়ে মূল ফটকের সামনে এসে সমাপন করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার ভুক্তভোগী মেয়েটির বয়স ১৩ বছর এবং তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, মা-বাবা গার্মেন্টসে চাকরি করে থাকায় তারা গাজীপুরের মৌচাকে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
শিক্ষার্থীরা মিছিলে নানান স্লোগান দেন—যেমন: “অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “ধর্ষকের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “আমার ধর্ষিত কেন? ইন্টারিম জবাব দে”, “ধর্ষকের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে”, ও “ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই”।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই মাস আগে ভাড়া বাড়ি থেকে ওই ছাত্রীকে তাদের প্রতিবেশী সঞ্জিত বর্মন ও তার শ্যালক লোকনাথ চন্দ্র দাস-এর সহযোগিতায় ভাগিনা জয় কুমার দাস অপহরণ করে লোকনাথের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। পরে অভিযোগ আছে, সেখানে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক তিন দিন ধরে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার করা হয়। ঘটনার কিছু অংশের একটি কাঁদাঘোলা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।
মিছিল শেষে ঢাকা কলেজের একজন শিক্ষার্থী রিফাত সাংবাদিকদের বলেন, “গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার একটি মাদ্রাসার ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে দু’মাস আগে কৌশলে আটকিয়ে রাখা হয় এবং তিন দিন ধরে ধর্ষণ করা হয়। প্রধান অভিযুক্তরা হলেন জয় কুমার দাস ও সঞ্জয় কুমার দাস। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে মঙ্গলবার তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।”
রিফাত আরও অভিযোগ করে বলেন, কিছু ঘটনায় যদি কোনো হিন্দু ধর্মানুরাগী ব্যক্তির সঙ্গে অপরাধ জড়িত থাকে, তখন বহিরাগত বা ভারতের কোনো হস্তক্ষেপের কারণে ন্যায়ানুসরণে ব্যাঘাত ঘটায়—এমন মানসিকতা চলে আসছে বলে তার অভিযোগ। তিনি বলেন, “আমরা একটি সুষ্ঠু বিচার দেখব।”
মিছিলকারীরা মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। রিফাত বলেন, “কিছু বিষয় মিডিয়া প্রায় উপেক্ষা করে, তাই আমরা চাই মিডিয়া বাংলাদেশমুখী হোক, দেশের নাগরিকদের স্বার্থে কথা বলুক। তিস্তা ও পানি সংক্রান্ত অধিকার যেমন আমাদের, তেমনি ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি ন্যায্য বিচারের মতোই দাবি রাখে আমরা।”
পুলিশ এখন পর্যন্ত অভিযোগ ও গ্রেপ্তার সংক্রান্ত বিস্তারিত তদন্ত ও পদক্ষেপে উদ্যোগ নিয়েছে। ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচারের দাবি জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
No comments:
Post a Comment