জোট হলেও নিজ দলীয় প্রতীকে দাঁড়াতে হবে প্রার্থীদের - People’s Bangla

People’s Bangla

Voice of the People | জনতার কণ্ঠস্বর

সর্বশেষ

Home Top Ad

Post Top Ad

Thursday, October 23, 2025

জোট হলেও নিজ দলীয় প্রতীকে দাঁড়াতে হবে প্রার্থীদের

জোট হলেও নিজ দলীয় প্রতীকে দাঁড়াতে হবে প্রার্থীদের

📰 আরপিও সংশোধনের খসড়া অনুমোদন: জোটভুক্ত প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকেই লড়তে হবে, ‘না ভোট’ ফিরছে

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণ-প্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, নির্বাচনী জোট থাকলেও জোটভুক্ত প্রতিটি প্রার্থীকে নিজ নিজ দলের প্রতীকে ভোটে লড়তে হবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞা সম্প্রসারণসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করা হয়েছে।


📌 বৈঠক ও অনুমোদনের বিবরণ
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংশোধিত খসড়ার প্রধান দিকগুলো তুলে ধরেন।

আইন উপদেষ্টা জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ২০২৫ চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


📌 আরপিও সংশোধনের মূল দিকগুলো

🔹 প্রতীক ও জোট:
নির্বাচনী জোট থাকলেও প্রতিটি প্রার্থীকে নিজ দলের প্রতীকেই নির্বাচন করতে হবে। এতে ভোটাররা সহজে বুঝতে পারবেন কোন দলের প্রার্থী তিনি।

🔹 আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নতুন সংজ্ঞা:
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় এখন থেকে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে তারা পুলিশের মতোই ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে পারবে, এবং তাদের জন্য আলাদা কোনো আদেশের প্রয়োজন হবে না।

🔹 ইভিএম বাতিল:
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিধান খসড়া থেকে সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে

🔹 ‘না ভোট’ পুনর্বহাল:
সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন হলো ‘না ভোট’ পুনর্বহাল। এখন থেকে কোনো নির্বাচনী আসনে যদি মাত্র একজন প্রার্থী থাকেন, ভোটাররা তাকে ভোট না দেওয়ার (‘না ভোট’) সুযোগ পাবেন।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন,

“২০১৪ সালের সাজানো নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এই বিধান আনা হয়েছে। ভোটাররা যদি প্রার্থীকে পছন্দ না করেন, ‘না ভোট’ দিতে পারবেন। এরপর সেই আসনে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

🔹 প্রার্থীর আয়-সম্পত্তি প্রকাশ বাধ্যতামূলক:
প্রতিটি প্রার্থীকে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে অর্জিত আয় ও সম্পত্তির পূর্ণ বিবরণ হলফনামায় দিতে হবে।
এই তথ্যগুলো নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে জনগণ সহজে প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থা জানতে পারেন।
প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন—

“জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রার্থীর সম্পদ বিবরণ প্রকাশ বাধ্যতামূলক করতে হবে।”

🔹 অযোগ্য প্রার্থিতা ও জেলা পর্যায়ের কাঠামো:
পলাতক আসামিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
প্রতিটি জেলায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন।


📌 আইন উপদেষ্টার ব্যাখ্যা
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন,

“নতুন সংশোধনীতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ‘না ভোট’ ও সম্পদ প্রকাশের বিধান গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।”

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, যিনি বলেন,

“এই সংশোধনী জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

© 2025 Peoples Bangla | All Rights Reserved.
×