এনসিপিকে কতগুলো আসন ছাড়তে রাজি বিএনপি, যা জানা গেল
📰 বিএনপি–এনসিপির সম্পর্ক টানাপোড়েনে, নির্বাচনি সমঝোতায় আড়ালে চলছে আলোচনা
রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই সনদসহ রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে গত কয়েক মাস ধরে বিএনপি ও এনসিপির (ন্যাশনাল কনফারেন্স পার্টি) মধ্যে দেখা দিয়েছে টানাপোড়েন। রাজনীতির মাঠে উভয় দল একে অপরের সমালোচনায় সরব।
বিশেষ করে রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে মতপার্থক্য সম্পর্ককে আরও দূরত্বে ঠেলে দিয়েছে। বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ অন্তর্বর্তী সরকারের ছাত্র উপদেষ্টাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন, অন্যদিকে কোথাও কোথাও এনসিপির কর্মসূচিতে বাধা বা হামলার অভিযোগও উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
📌 সংস্কার ও জোট রাজনীতিতে মতভেদ
সংস্কার ও আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে এখনো দ্বিধা ও মতবিরোধ রয়েছে। তবে এরই মধ্যে দুই দলের নেতাদের মধ্যে অঘোষিত আলোচনা চলছে নির্বাচনি জোট বা সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে।
এনসিপির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—
দলটির মধ্যে দুটি অবস্থান বিদ্যমান।
- একপক্ষ মনে করে, বিএনপি যদি ৩০ থেকে ৪০টি আসন ছাড় দেয়, তাহলে জোটে যাওয়ার পথ তৈরি হতে পারে।
- অপর পক্ষের আশঙ্কা, বিএনপি আসন ছাড়লেও দলের ভেতরের বিদ্রোহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে নামতে পারেন—যা এনসিপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন,
“আপাতত বিএনপির সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতা বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।”
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ২০টি আসন এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে। তাদের ধারণা, দলের পূর্ণ সমর্থন পেলে অন্তত ৮ জন প্রার্থী জয়ী হতে পারেন। বাকিদের জয় সম্ভাবনা কম হলেও জোট রাজনীতির ভারসাম্যের জন্য ছাড় দিতে হতে পারে।
📌 বিএনপির কৌশল: তরুণ প্রার্থীর দিকে ঝোঁক
আসন্ন নির্বাচনে তরুণদের বেশি সংখ্যায় প্রার্থী করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত বার্তা পাঠানো হয়েছে।
দলের এক দায়িত্বশীল নেতা জানান—
“২০০৮ সালের পর যে প্রজন্ম এখন ভোটার, তাদের বেশিরভাগের বয়স ১৮ থেকে ৩৫-এর মধ্যে। এদের রাজনৈতিক মনোভাব আলাদা। তারা পরিবর্তন চায়, তরুণ নেতৃত্বে আস্থা রাখে।”
বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার তরুণ, এবং বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে—প্রায় ২৫ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্ত নেননি কাকে ভোট দেবেন। এই অনিশ্চিত ভোটারদের বড় অংশই তরুণ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনে তরুণদের সক্রিয়তা বিএনপিকে ভাবাচ্ছে। কারণ এসব নির্বাচনে ছাত্রদল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি, বরং নতুন প্রজন্মের স্বতন্ত্র নেতৃত্ব উঠে এসেছে।
সে কারণেই বিএনপির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে,
“প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে তরুণ, ত্যাগী ও হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়দের অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা দিয়েও তরুণ প্রার্থীদের দাঁড় করাতে হবে।”
📌 ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও এনসিপির সম্পর্ক ‘শীতল’ হলেও নির্বাচনের আগে বাস্তব রাজনীতির সমীকরণে আবারও ঘনিষ্ঠতা বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,
“তরুণ ভোটার ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের বাস্তবতায় বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে ন্যূনতম সমঝোতা না হলে বিরোধী রাজনীতি দুর্বল হতে পারে।”
No comments:
Post a Comment