| কী ঘটেছিল মুফতি মহিবুল্লাহর সাথে, দিলেন লোমহর্ষক বর্ণনা |
টঙ্গী থেকে নিখোঁজ মুফতি মহিবুল্লাহ মিয়াজীকে পঞ্চগড়ে উদ্ধার
গাজীপুর ও পঞ্চগড় প্রতিনিধি │ বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর:
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী থেকে নিখোঁজ বিটিসিএল টিঅ্যান্ডটি কলোনি জামে মসজিদের খতিব মুফতি মো. মহিবুল্লাহ মিয়াজীকে (৬০) পঞ্চগড়ের হেলিপ্যাড বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।
নিখোঁজের একদিন পর বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয়রা একটি গাছের সঙ্গে পা-বাঁধা ও বিবস্ত্র অবস্থায় তাকে দেখতে পান। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মুফতি মহিবুল্লাহকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
নিজের অপহরণের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মুফতি মহিবুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, “বুধবার ফজরের নামাজের পর হাঁটতে বের হলে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে করে পাঁচজন এসে আমার মুখে কাপড় চেপে ধরে তুলে নেয়। এরপর তারা আমাকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে।”
তিনি আরও জানান, “গত কয়েক মাস ধরে আমাকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ইসকনের নেতা চিন্ময়ের পক্ষে কথা বলতে বলা হয়েছে, বিএনপি–জামায়াত–এনসিপির বিরুদ্ধে কথা বলতে বলা হয়েছে, এমনকি হিন্দু–মুসলমান প্রেমের পক্ষে বক্তব্য দিতে বলেছে। তাদের কথামতো বয়ান দিলে কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, না বললে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে।”
মুফতি মহিবুল্লাহ বলেন, “অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে আমাকে বিবস্ত্র করে মারধর করেছে তারা। বোতলে পানি ভরে সেই বোতল দিয়ে আমার উরুতে আঘাত করেছে। তারা পাঁচজন ছিল এবং প্রমিত বাংলায় কথা বলছিল। তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছে, তারা বাংলাদেশি নয়। তারা বলেছে, একে একে সব আলেমদের ক্ষতি করবে। আমি এখন নিরাপত্তা ও বিচার চাই।”
এদিকে, পঞ্চগড় ইসলামী আন্দোলনের সহসভাপতি ক্বারী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, “মুফতি মহিবুল্লাহকে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। তার পায়ে শিকল ছিল, যা দিয়ে তাকে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছিল। সকালে নামাজ শেষে স্থানীয় মসজিদের ইমাম তাকে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।”
পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, “৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। হেলিপ্যাড এলাকায় শিকলে বাঁধা অবস্থায় এক বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা টঙ্গী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।”
টঙ্গী থানায় করা পরিবারের সাধারণ ডায়েরি থেকে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে জুমার খুতবায় ইসকনবিরোধী বক্তব্য দিয়েছিলেন মুফতি মহিবুল্লাহ। এরপর থেকেই ইসকনের বরাতে একের পর এক হুমকিমূলক চিঠি পাচ্ছিলেন তিনি।
No comments:
Post a Comment