শাশুড়ির ১২ লাখ টাকার কিলারে খুন হন সালমান শাহ! - People’s Bangla

People’s Bangla

Voice of the People | জনতার কণ্ঠস্বর

সর্বশেষ

Home Top Ad

Post Top Ad

Thursday, October 23, 2025

শাশুড়ির ১২ লাখ টাকার কিলারে খুন হন সালমান শাহ!

শাশুড়ির ১২ লাখ টাকার কিলারে খুন হন সালমান শাহ!

📰 সালমান শাহ হত্যা: ২৯ বছর পর অপমৃত্যু মামলা রূপ নিল হত্যাকাণ্ডে
📅 পিপলস বাংলা নিউজ ডেস্ক

ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়কদের ভিড়েও তাকে সহজেই আলাদা করে চেনা যায়— যার অভিনয়, স্টাইল এবং উপস্থিতি এখনও মুগ্ধ করে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ার, অথচ সেই অল্প সময়েই হয়েছিলেন এক কিংবদন্তি। বলছি, ঢাকাই সিনেমার ক্ষণজন্মা নক্ষত্র সালমান শাহ-এর কথা।


🕯️ চিরবিদায় ও রহস্যময় মৃত্যু
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, সবাইকে বিস্মিত করে না ফেরার দেশে চলে যান সালমান শাহ। মৃত্যুর ২৯ বছর পরও তিনি দর্শকের হৃদয়ে অমর।

তবে সেই রাতটি ছিল এক নির্মম, পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের মঞ্চ— এমনই লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন সালমান শাহ হত্যা মামলার ১১ নম্বর আসামি রেজভি আহমেদ ফরহাদ

দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে সালমান শাহর “অপমৃত্যু” মামলা রূপ নিয়েছে হত্যা মামলায়। এতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ১৯৯৭ সালে রেজভীর দেয়া এক জবানবন্দি, যেখানে তিনি স্বীকার করেন—

“আমরা সালমান শাহকে হত্যা করেছি। হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে সাজানো হয়েছে।”


🔍 ১২ লাখ টাকার হত্যাচুক্তি!
১৯৯৭ সালের ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে রেজভী বলেন, সালমান শাহর মৃত্যু ছিল ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সংঘটিত এক হত্যার চুক্তি। এই চুক্তি করেন সালমান শাহর শাশুড়ি লতিফা হক লুসি

এই পরিকল্পনায় আরও যুক্ত ছিলেন বাংলা সিনেমার খলনায়ক ডন, ডেভিড, ফারুক ও জাভেদ

রেজভীর বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় গুলিস্তানের একটি বারে বসে এই হত্যার পরিকল্পনা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ, রেজভী, ছাত্তার ও সাজু।

সে সময় ফারুক ২ লাখ টাকা বের করে বলেন, “সামিরার মা এই টাকা দিয়েছেন— সালমানকে শেষ করার জন্য মোট ১২ লাখ টাকা দেবেন।”

পরে আরও ৪ লাখ টাকা দেয়া হয়, এবং সিদ্ধান্ত হয়— কাজের আগে ৬ লাখ, কাজের পরে ৬ লাখ। এরপর তারা প্লাস্টিকের দড়ি, সিরিঞ্জ ও রিভলভারসহ হত্যার সরঞ্জাম প্রস্তুত করে।


💀 ঘুমন্ত অবস্থায় নির্মম হত্যা
রেজভীর ভয়ংকর স্বীকারোক্তিতে উঠে আসে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটায় সালমান শাহর বাসায় প্রবেশ করেন ডন, ডেভিড, ফারুক ও আজিজ মোহাম্মদ ভাই।

ঘুমন্ত সালমানকে প্রথমে ক্লোরোফর্ম দিয়ে বেহুশ করেন তার স্ত্রী সামিরা, পরে যখন জ্ঞান ফিরে আসে, শুরু হয় ধস্তাধস্তি। তখন সালমান শাহর শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়।

রেজভীর দাবি, হত্যাকাণ্ডে উপস্থিত ছিলেন সামিরা, তার মা লুসি এবং আত্মীয়া রুবি। হত্যার পর সালমান শাহর দেহকে সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে দেয়া হয়, যেন ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হয়।


⚖️ ২৯ বছর পর নতুন মোড়
দীর্ঘদিন এ মৃত্যুকে অপমৃত্যু বলে উল্লেখ করেছে একাধিক তদন্ত কমিটি, কিন্তু কখনও সত্য উদঘাটিত হয়নি। অবশেষে ২৯ বছর পর সালমান শাহর মৃত্যু মামলা রূপ নিয়েছে হত্যা মামলায়।

এই মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি নায়কের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক

অন্য আসামিরা হলেন:
আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়া বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ।


📌 শেষ কথা
২৫ বছর বয়সে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করা এই তারকা এখনও কোটি ভক্তের হৃদয়ে জীবন্ত। ১৯৯৬ সালের সেই কালো সকাল এখনও ঢালিউডের ইতিহাসে এক অপূরণীয় ট্র্যাজেডি হয়ে আছে।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

© 2025 Peoples Bangla | All Rights Reserved.
×