| দলের পক্ষে নয়, উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান |
উপদেষ্টারা নিরপেক্ষ থাকবেন—এটাই জাতির প্রত্যাশা: মির্জা ফখরুল
স্টাফ রিপোর্টার | পিপলস বাংলা নিউজ
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাগণ কোনো বিশেষ দলের পক্ষে নয়, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই এখন জাতির প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছি, যেন তারা জাতিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারে।”
শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের কাপাসিয়ার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিএনপির প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ-এর নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ স্মৃতি ফাউন্ডেশন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক একেএম ফজলুল হক মিলন, প্রধান আলোচক ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা।
মির্জা ফখরুল স্মরণসভায় বলেন,
“মরহুম ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ ছিলেন দলের দুর্দিনের অকুতোভয় সৈনিক। তিনি দেশপ্রেমিক ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা ছিলেন। ব্যক্তিস্বার্থকে কখনোই বড় করে দেখেননি। সর্বদা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানকে সামনে রেখে কাজ করেছেন।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ড. ইউনুস একজন নোবেল বিজয়ী ও বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন।”
তিনি অভিযোগ করেন, “কিছু উপদেষ্টা বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছেন বলে শোনা যাচ্ছে, এটি অনভিপ্রেত। সকলকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।”
এ সময় মির্জা ফখরুল ভারতের সঙ্গে অসম পানি বণ্টন, সীমান্তে হত্যা ও নির্বাচনে হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন,
“যারা বারবার বাংলাদেশের মানুষকে বিপদের মুখে ফেলেছে, তারা যেন আর কখনো ক্ষমতায় ফিরতে না পারে।”
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন,
“গত ১৭ বছরে বিএনপির প্রায় এক হাজার নেতা-কর্মীকে গুম ও হত্যা করা হয়েছে। ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তবুও আমরা হার মানিনি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি যোগ করেন, “বিএনপি-ই সংস্কারের ধারক ও বাহক। গণতন্ত্রের জন্য বিএনপি দীর্ঘদিন লড়াই করেছে। আজও আমরা সেই সংগ্রামে আছি।”
স্মরণসভার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘাগটিয়া গ্রামের হান্নান শাহ-এর কবর জিয়ারত করেন, পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন।
No comments:
Post a Comment