| এস আলম, প্রশান্ত কুমারসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে ৩ মামলার চার্জশিট দুদকের |
তিনটি মামলায় ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে দুদক, পলাতক এস আলম গ্রুপ চেয়ারম্যানসহ রয়েছেন কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা
সংবাদবিবরণ:
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তিনটি পৃথক মামলায় ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে, যার মধ্যে পলাতক রয়েছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লি.-এর (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লি.) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদার।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচা-তে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন।
দুদক জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এ বছরের ২ জুলাই নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
প্রথম মামলায় অভিযোগ, আসামি মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের কর্মকর্তারা মেসার্স এ এম ট্রেডিং নামক নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগসাজশে ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট ৩৪ কোটি টাকার মেয়াদি ঋণ অনুমোদন করেন। ৯ সেপ্টেম্বর ওই ঋণের টাকা বিতরণ করা হয়। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সিআইবি রিপোর্ট না নেওয়া, ঠিকানা যাচাই না করা, এমআইসিআর চেক না নেওয়া সহ বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়। পরবর্তীতে টাকা এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লি.-এ স্থানান্তরিত করা হয়। এ মামলায় মোট ১৩ জন অভিযুক্ত।
দ্বিতীয় মামলায় অভিযোগ, একই পদ্ধতিতে মেসার্স মোস্তফা এন্ড কোং নামে ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকার মেয়াদি ঋণ অনুমোদন ও ৯ অক্টোবর বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। এই টাকা ও একইভাবে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লি.-এ স্থানান্তরিত হয়। এ মামলায়ও ১৩ জন আসামি রয়েছেন।
তৃতীয় মামলায় বলা হয়েছে, মেসার্স সাইফুল এন্ড কোং নামক নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ২৪ কোটি টাকার একটি মেয়াদি ঋণ ২০১৩ সালের ৩ অক্টোবর অনুমোদন ও ৪ নভেম্বর বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। এই টাকা ও এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লি.-এ স্থানান্তরিত করা হয়। এই মামলাতেও ১৩ জন আসামি রয়েছেন।
তিন মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান, শাহানা ফেরদৌস, রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার হালদার, রাশেদুল হক, নাহিদা রুনাই, কাজী আহমেদ জামাল, জুমারাতুল বান্না, এবং মারিন ভেজিটেবল অয়েলস লি.-এর পরিচালক ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১২০বি ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুদক জানায়, তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।
No comments:
Post a Comment