| আইনি ভিত্তি না দিলে সংস্কারের সনদে সই করবে না জামায়াত |
জুলাই সনদে আইনগত ভিত্তি না থাকলে জামায়াত সই করবে না: ডা. তাহের
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি না থাকলে জামায়াতে ইসলামী তাতে সই করবে না বলে জানিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, “আইনগত ভিত্তি ছাড়া কোনো সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নযোগ্য হবে না এবং জনগণের কাছে তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।”
বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ২২তম দিনের সংলাপে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
'সনদের খসড়া দেখে হতাশ হয়েছি'
ডা. তাহের বলেন,
“দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে যেসব সংস্কার প্রস্তাবে আমরা একমত হয়েছি, সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে দেশে একটি গুণগত পরিবর্তন সম্ভব। কিন্তু গতকাল যে খসড়া পাঠানো হয়েছে, তা দেখে আমরা হতাশ হয়েছি। সেখানে বলা হয়েছে, দুই বছরের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়ন হবে, কিন্তু সরকারের মেয়াদ বা কমিশনের এখতিয়ার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন,
“সরকার কি তাহলে দুই বছর ক্ষমতায় থাকতে চায়? যদি বর্তমান সরকার এসব বাস্তবায়ন না করে পরবর্তী সরকারের হাতে তুলে দেয়, তবে এতদিনের আলোচনা ও শ্রম শুধু পরামর্শ দেওয়ার পর্যায়েই সীমিত থাকবে, বাস্তব ফল আসবে না।”
আইনি ভিত্তির দাবি ও আইনজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন,
“আমরা ধরে নিয়েছিলাম, সংস্কারগুলোকে আইনগত ভিত্তি দিয়ে বাধ্যতামূলক রূপ দেওয়া হবে। তা না হলে জনগণ এটাকে গুরুত্ব দেবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন বহুবার হয়েছে—আইনি জটিলতা কাটিয়ে সমাধান এসেছে। অতীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, এরশাদসহ অনেক শাসক আইনগত কাঠামোর মধ্য দিয়েই ক্ষমতায় এসেছেন।”
তিনি আইনজ্ঞদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়ে বলেন,
“আইনজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে কীভাবে এই সংস্কার প্রক্রিয়া একটি আইনগত ভিত্তি পেতে পারে। এই মুহূর্তে সেই আলোচনার দরকার রয়েছে।”
‘প্রতীকী দলিল হলে আমরা সই করব না’
শেষে ডা. তাহের স্পষ্টভাবে জানান,
“জুলাই সনদ যদি বাস্তবায়নযোগ্য না হয়, কেবল একটি প্রতীকী দলিলে পরিণত হয়, তাহলে তাতে সই করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। জনগণের কাছে যার বাস্তব মূল্য নেই, এমন কোনো প্রস্তাবে জামায়াত সই করবে না।”
No comments:
Post a Comment