| লূত আ.-এর জাতি যে পাপের কারণে ধ্বংস হয়েছিল |
হজরত লূত (আ.)-এর জাতির অপকর্ম, অস্বীকার আর চূড়ান্ত ধ্বংসের ইতিহাস
People’s Bangla ডেস্ক | ইসলাম ও ইতিহাস বিভাগ
📍সাদূম, প্রাচীন জর্ডান | ⏳ কোরআনিক কালপঞ্জি
হজরত লূত (আ.) ছিলেন হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর ভাতিজা এবং একজন আল্লাহপ্রদত্ত নবী। তিনি জন্মস্থান বাবেল (বর্তমান ইরাক অঞ্চলের এক শহর) থেকে হিজরত করে বায়তুল মুক্বাদ্দাসের নিকটবর্তী কেনআন এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেন। এখান থেকে আল্লাহ তাঁকে নবুয়ত দান করে প্রেরণ করেন জর্ডানের মধ্যবর্তী অঞ্চল “সাদূম”-এর অধিবাসীদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য।
এই অঞ্চলটি ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। উর্বর জমি, শস্য, ফলমূল—সবকিছুতেই প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু সে জাতি ছিল আল্লাহর বিধান অমান্যকারী এবং সীমালঙ্ঘনকারী।
🚫 অপকর্মে নিমজ্জিত এক জাতি
সাদূমবাসীরা আল্লাহর ইবাদত পরিত্যাগ করে মূর্তিপূজা, শিরক এবং নানা অনাচারে লিপ্ত হয়ে পড়ে। সবচেয়ে ভয়াবহ যে অপকর্ম তারা করতো, তা ছিল সমকামিতা—যা এর আগে মানব ইতিহাসে কেউ করে নাই। তারা নারীসঙ্গ পরিত্যাগ করে পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করত। কোরআনে একে বলা হয়েছে:
“তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ যা তোমাদের আগে দুনিয়ার কেউ কখনো করেনি?”
(সূরা আরাফ, ৭:৮১)
🗣 নবীর সতর্কতা উপেক্ষা
হজরত লূত (আ.) তাদের সতর্ক করে বলেছিলেন:
“আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রাসূল। আল্লাহকে ভয় করো ও আমার অনুসরণ করো। আমি তোমাদের থেকে কোনো পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান তো আল্লাহর কাছেই।”
(সূরা শু'আরা, ২৬:১৬২-১৬৫)
তিনি জাতিকে আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত দেন এবং তাদের নোংরামি থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানান। কিন্তু জাতি উপহাস করে বলে:
“হে লূত! যদি তুমি এসব বন্ধ না করো, তবে তোমাকে আমাদের শহর থেকে বের করে দেব।”
(সূরা শু'আরা, ২৬:১৬৭)
🔥 আরও অপরাধে লিপ্ত ছিল তারা
সমকামিতা ছাড়াও এই জাতি ছিল:
- রাহাজানিতে লিপ্ত—পথচারীদের উপর আক্রমণ চালিয়ে সম্পদ লুট করে নিত।
- অশ্লীলতার প্রদর্শনে অভ্যস্ত—জনসম্মুখে অনাচার করত।
- রাসূলদের প্রতি অবিশ্বাসী ও মিথ্যাচারকারী।
☄️ ভয়াবহ ধ্বংস নেমে এলো
অবশেষে হজরত লূত (আ.) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন—“হে আল্লাহ! এই অপরাধী জাতির বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো”।
📌 ফলাফল:
- ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) পুরো জনপদকে তাঁর ডানার স্পর্শে আসমানে তুলে নেন।
- এত উচ্চতায় ওঠে যে, আসমানবাসী ফেরেশতারা নিচের জনপদের কুকুর ও মোরগের ডাক পর্যন্ত শুনতে পান!
- এরপর জনপদটিকে সম্পূর্ণভাবে উল্টো করে দেওয়া হয়।
- আকাশ থেকে বর্ষিত হয় নামসহ চিহ্নিত পাথর, যা প্রত্যেক অপরাধীর ওপর পড়ে।
- নগর ধ্বংসের পর সেখানে সৃষ্টি হয় দূষিত পানির হ্রদ—আজ যা “ডেড সি” নামে পরিচিত।
আল্লাহ বলেন:
“অবশেষে যখন আমার নির্দেশ এলো, আমি উক্ত জনপদকে ধ্বংস করে দিলাম এবং তাদের ওপর স্তরে স্তরে পাথর বর্ষণ করলাম।”
(সূরা হুদ, ১১:৮২)
📌 আজকের শিক্ষাঃ
কোনো সমাজ যদি সীমালঙ্ঘনে মত্ত হয়ে যায় এবং আল্লাহর বিধানকে অগ্রাহ্য করে—তবে শেষ পরিণতি ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই নয়। সাদূমবাসীদের ইতিহাস এটাই আমাদের শেখায়।
No comments:
Post a Comment