| হাজারো মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। |
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে মুসলিমদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে উচ্ছেদ করা হচ্ছে এবং তাদের অনেককেই বাংলাদেশ সীমান্তে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে হাজারো মুসলিম পরিবার এই দমন অভিযানের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
আসামের গোলপাড়া, বরপেটা ও আরও কয়েকটি জেলায় শত শত মুসলিম পরিবারকে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে উচ্ছেদ করা হয়েছে। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরেই এসব এলাকায় বসবাস করছেন।
“আমরা তো এখানেই জন্মেছি”
৫৩ বছর বয়সী আরান আলী বলেন, “সরকার বারবার আমাদের হয়রানি করে। আমরা তো এখানেই জন্মেছি, তবুও আমাদের অনুপ্রবেশকারী বলা হয়।” এখন তিনি পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দমন?
বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে, ২০২৫ সালের আসাম রাজ্য নির্বাচনের আগে এই অভিযানটি পরিকল্পিতভাবে মুসলিম ভোটারদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে। বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা নিতে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক প্রভীন দন্তি বলেন, “বাংলাভাষী মুসলিমরা ভারতের উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সহজ টার্গেটে পরিণত হয়েছে।”
“অবৈধ অনুপ্রবেশকারী” অভিযোগে গ্রেপ্তার
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, “বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীরা ভারতের পরিচয় হুমকির মুখে ফেলছে।” তিনি দাবি করেন, রাজ্যের ৩১ মিলিয়ন জনসংখ্যার ৩০% অভিবাসী মুসলিম এবং এই হার কয়েক বছরের মধ্যে ৫০%-এ পৌঁছাতে পারে।
বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ভারত ২,৩৬৯ জন বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারী’কে ফেরত পাঠানোর জন্য একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে এবং বাংলাদেশকে দ্রুত যাচাই করতে বলেছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, “অবৈধ অভিবাসী শনাক্তের নামে ভারত মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নীতি প্রয়োগ করছে।” আদালতের রায় না হওয়া সত্ত্বেও বহু মানুষকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করা হয়েছে, যাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন।
No comments:
Post a Comment