| সালমান শাহকে নিয়ে লেখা বই নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ জানা গেলো |
📰 সালমান শাহ নিয়ে রবি আরমানের বই ‘নক্ষত্রের আত্মহত্যা’—নিষিদ্ধ হওয়ার পেছনের গল্প
সাংবাদিক রবি আরমানের লেখা বহুল আলোচিত ও সমালোচিত গ্রন্থ— ‘সালমান শাহ, নক্ষত্রের আত্মহত্যা’ প্রকাশিত হওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বইটি প্রকাশের মাত্র কয়েক দিন পরই বাজার থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
১৯৯৭ সালে প্রকাশিত এ বইটি বাজারে আসার পরপরই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। কারণ, বইটিতে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী বইটি প্রকাশের পরই এর বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানান। তিনি দাবি করেন, বইটিতে প্রকাশিত তথ্য মিথ্যা ও মানহানিকর। পরবর্তীতে তিনি লেখক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
আদালত মামলা গ্রহণ করে বইটির বিক্রি ও বিতরণ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের পরই বইটি বাজার থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সংগ্রহের অযোগ্য এক ‘বিতর্কিত দলিল’ হয়ে ওঠে।
বইটির প্রচ্ছদের পেছনে লেখা ছিল এক আবেগঘন ভূমিকা—
“আমাদের সিনেমার বাগানে একটি ফুল ফুটেছিল—সুবাসিত ও উজ্জ্বল। নাম তার সালমান শাহ। চন্দ্রালোকে ভেসে যাওয়া সেই সফল ও উচ্ছল যুবকের দেহে বিঁধেছিল গোপন এক বিষকাঁটা। অন্তর্লীন যাতনায় নীল হয়ে এক শুভ্রসকালে হঠাৎ সে আত্মদংশনে হারিয়ে যায়। তারপর সেই বাগানে পাখিরা আর গান গায় না, ফুল ফোটে না, বাতাসে ভাসে বিষাদের একটানা করুণ সুর।”
এরপর আরও লেখা ছিল—
“দুর্ভেদ্য রহস্যের পর্দা সরিয়ে সালমানচরিতের সেই গোপনগাঁথা উঠে এসেছে এক অন্তরঙ্গজনের সাহসী কলমে। ঢাকার সিনেমা বলয়ের এক উজ্জ্বল সময় ও সেই সময়ের মহানায়ক সালমান শাহকে ঘিরে এটি এক বিরল দলিল।”
বইটি এখনো চলচ্চিত্রপ্রেমী ও গবেষকদের কাছে এক রহস্যময় অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।
No comments:
Post a Comment