| চকলেট খেতে বাধা দেয়ায় পুলিশকে ধমকালেন কামরুল |
🔹 চকলেট খেতে বাধা, আদালতে পুলিশকে ধমক দিলেন সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানির জন্য ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতা কামরুল ইসলামকে। এ সময় চকলেট খেতে বাধা দেওয়ায় পুলিশ সদস্যদের ওপর মেজাজ হারান তিনি।
বুধবার সকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত ২৩ অক্টোবর শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহফুজুর রহমান এই মামলায় কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওইদিন আদালত তার উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজকের (বুধবার) দিন ধার্য করেছিলেন।
আবেদনে বলা হয়, আসামি কামরুল ইসলাম মামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন, যাতে ঘটনার পেছনে থাকা ইন্ধনদাতা ও মদতদাতাদের শনাক্ত করা যায় এবং পলাতক আসামিদের খুঁজে বের করা সম্ভব হয়।
বুধবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে এজলাসে তোলা হয় কামরুল ইসলামকে। তাকে কাঠগড়ায় তোলা হলে তার আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন তাকে একটি চকলেট দেন।
এ সময় কাঠগড়ার পাশে থাকা পুলিশ সদস্যরা চকলেট খেতে বাধা দিলে কামরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন,
“বেয়াদব কোথাকার! আমার ডায়াবেটিস, একটা চকলেট দিয়েছে, তাতেও বাধা? বেয়াদব!”
তিনি চিৎকার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, পরে পুলিশ ওই আইনজীবীকে তার কাছ থেকে সরিয়ে নেয়।
কিছুক্ষণ পর বিচারক এজলাসে ওঠেন এবং মামলায় কামরুল ইসলামের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। তখন আসামিপক্ষের আইনজীবী জানতে চান,
“কী মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো, মামলার অভিযোগ কী?”
পরে আইনজীবী আদালতের কাছে আসামিকে চকলেট ও পানি খাওয়ানোর অনুমতি চান। এ সময় বিচারক বলেন,
“আইন অনুযায়ী পুলিশই তার খাওয়ার ব্যবস্থা করবে।”
এরপর আবারও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে কামরুল ইসলামকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ৪ আগস্ট বাংলামোটর ফুটওভার ব্রিজের মোড়ে ছাত্র-জনতা অবস্থান করছিলেন। সে সময় আসামিদের গুলিতে এক ভিকটিমের বাম পা গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলামসহ ৬৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
No comments:
Post a Comment