| যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ২৮ জনকে হত্যা করেছে ইসরাইল |
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরাইলি হামলা, একই পরিবারের ১১ জনসহ নিহত ২৮ ফিলিস্তিনি
গাজায় আট দিন আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের হামলায় গাজার জেইতুন এলাকায় একই পরিবারের ১১ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে ভয়াবহ লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শনিবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞাপন
গাজার নাগরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় আবু শাবান পরিবারকে বহনকারী একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরাইলি ট্যাংক শেল নিক্ষেপ করে সেনারা। নিহতদের মধ্যে সাত শিশু, তিনজন নারী এবং পরিবারের কর্তা ছিলেন।
নাগরিক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন,
“পরিবারটি তাদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি দেখতে যাচ্ছিল, তখনই ইসরাইলি বাহিনী গুলি চালায়। তাদের সতর্ক করা যেত, কিন্তু তারা ইচ্ছাকৃতভাবে নিরীহ বেসামরিকদের টার্গেট করেছে—এটি তাদের রক্তপিপাসু মনোভাবের প্রমাণ।”
এ ঘটনাকে “গণহত্যা” হিসেবে আখ্যা দিয়ে হামাস আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ মধ্যস্থতাকারীদের উদ্দেশে, যাতে তারা ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলতে চাপ দেয়।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় নিহতরা “হলুদ রেখা” নামের সীমান্ত অতিক্রমের সময় গুলিবিদ্ধ হন। ওই রেখা বরাবর ইসরাইলি বাহিনীর পিছু হটার কথা ছিল। তবে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছেন, “ওই রেখাগুলো স্পষ্টতার জন্য শিগগিরই পুনঃচিহ্নিত করা হবে।”
এদিকে যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইল গাজায় হামলার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা প্রবাহেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। রাফাহসহ গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার প্রবেশ মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার বহু এলাকা এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে। প্রায় অর্ধেক জনগণ দিনে ছয় লিটারেরও কম বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে, যা ন্যূনতম মানদণ্ডের চেয়েও নিচে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) জানায়, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৫৬০ টন খাদ্য সরবরাহ করা গেছে, যা ব্যাপক অপুষ্টি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণের তুলনায় অনেক কম।
অন্যদিকে, হামাস জানিয়েছে তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ইসরাইলি বন্দীদের মৃতদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবার আরও একজন বন্দীর মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়, ফলে মোট ফেরত দেওয়া মৃতদেহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।
তবে হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরাইল ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধার সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে বাধা দিচ্ছে, যার ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মৃতদেহ উদ্ধার ব্যাহত হচ্ছে।
আল-জাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদ বলেন,
“ইসরাইল এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে গাজার মানুষ নিজের প্রিয়জনদের মৃতদেহও উদ্ধার করতে পারছে না। ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশে বাধা দিয়ে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর করা হচ্ছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক হামলা ও অবরোধ যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ সঙ্কটে ঠেলে দিচ্ছে।
No comments:
Post a Comment