ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বন্দিদশার ভয়াবহতার বর্ণনা দিলেন মুসা - People’s Bangla

People’s Bangla

Voice of the People | জনতার কণ্ঠস্বর

সর্বশেষ

Home Top Ad

Post Top Ad

Sunday, October 19, 2025

ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বন্দিদশার ভয়াবহতার বর্ণনা দিলেন মুসা

ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বন্দিদশার ভয়াবহতার বর্ণনা দিলেন মুসা

২০ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেলেন আবু মুসা, ফিরে দেখলেন পরিবার নেই

ইসরাইলি কারাগারে ২০ মাস বন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি নাগরিক মোহাম্মদ আবু মুসা। কিন্তু বাড়ি ফিরে তার চোখে ভেসে ওঠে ভয়াবহ এক বাস্তবতা— মা, বোন ও আত্মীয়স্বজন সবাই বিমান হামলায় নিহত; যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।

৪৫ বছর বয়সী এই মেডিকেল টেকনিশিয়ান সম্প্রতি গাজায় যুদ্ধবন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে মুক্তি পান। মুক্তির পরপরই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরলেও, তার চোখে ভেসে ওঠে কারাগারের নির্যাতনের স্মৃতি ও প্রিয়জন হারানোর বেদনা।

“ইসরাইলি কারাগারে প্রতিটি দিন ছিল শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে ভরা,” বলেন আবু মুসা।

টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিনা অভিযোগে তাকে আটক করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় লাঠি কিংবা খালি হাতেই পেটানো হতো। “তারা আমাদের সাথে পশুর মতো আচরণ করত,” স্মৃতিচারণ করেন তিনি।

চেকপয়েন্ট থেকে আটককৃতদের জিপ-টাই দিয়ে তিন দিন পর্যন্ত হাত বেঁধে রাখা হতো; পানি বা টয়লেট ব্যবহারের অনুমতি পর্যন্ত ছিল না। “আমরা সবাই নিজেদের জামাকাপড় নোংরা করে ফেলতাম,” বলেন তিনি।

এরপর তাকে পাঠানো হয় দক্ষিণ ইসরায়েলের সামরিক আটক কেন্দ্র এসদে তেইমান বন্দিশিবিরে, যেখানে তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে বাধ্য করা হতো। মারের চোটে তার পাঁজর ভেঙে যায়। “মনে হতো, পিঠটা যেন ভেঙে যাচ্ছে,” বলেন আবু মুসা।

পরে তাকে স্থানান্তর করা হয় নেগেভ কারাগারে। সেখানে নির্যাতনের মাত্রা কিছুটা কম হলেও জীবনযাত্রা ছিল অমানবিক। প্রায় সব বন্দিই মাইট সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে চুলকানিতে ভুগছিলেন; কিন্তু চিকিৎসা বা ওষুধের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

“মানুষ দেয়ালে ঘষে ঘষে শরীর চুলকাত,” বলেন তিনি। পোশাক পরিবর্তনের অনুমতি ছিল না; নোংরা বিছানায় ঘুমাতে হতো। একমাত্র পোশাক ধোয়ার পর বন্দিরা কম্বল দিয়ে নিজেদের শরীর ঢাকত, কিন্তু প্রহরীরা তা কেড়ে নিত।

রোগীদেরও দেওয়া হতো না কোনো চিকিৎসা। এক বন্দী, মোহাম্মদ আল-আস্তাল, কোলন ব্লকেজে মারা যান চিকিৎসাহীন অবস্থায়। আবু মুসা বলেন, “তারা আমাদের সাথে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট আচরণ করত।”

একই প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, ১৭ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর অনাহারে দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং কোলাইটিস ও খোসপাঁচড়ায় আক্রান্ত ছিল— যা বন্দি জীবনের ভয়াবহ বাস্তবতা স্পষ্ট করে।

ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ আইনসম্মত।

তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলমান যুদ্ধের সময় ইসরাইলি কারাগার ও আটক কেন্দ্রে অন্তত ৭৫ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন, যাদের মৃত্যুর কারণ নির্যাতন ও অমানবিক অবস্থা।


📅 সূত্র: TRT World, জাতিসংঘ প্রতিবেদন
📍 স্থান: গাজা

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

© 2025 Peoples Bangla | All Rights Reserved.
×