বিএনপি-জামায়াতের ওপর মোল্লা নজরুলের দানবীয় নিপীড়ন - People’s Bangla

People’s Bangla

Voice of the People | জনতার কণ্ঠস্বর

সর্বশেষ

Home Top Ad

Post Top Ad

Thursday, October 16, 2025

বিএনপি-জামায়াতের ওপর মোল্লা নজরুলের দানবীয় নিপীড়ন

বিএনপি-জামায়াতের ওপর মোল্লা নজরুলের দানবীয় নিপীড়ন
    জয়পুরহাটে রাজনৈতিক সহিংসতা ও দমন-পীড়নের চিত্র: নেতারা দাবি করেন ন্যায়বিচারের আহ্বান

জয়পুরহাট জেলা দীর্ঘদিন শান্তিপ্রিয় থাকলেও, ফ্যাসিস্ট হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ও পুলিশ ব্যবস্থার মাধ্যমে দমন, অপহরণ, গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার এক প্রতিবেদনে সাবেক এমপি আব্বাস আলী মণ্ডল উল্লেখ করেন, আগে জয়পুরহাটের রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনো হানাহানি-বিশৃঙ্খলা ছিল না। রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষে প্রতিপক্ষ নেতার সঙ্গে চা খেতে বসা, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় আলোচনা করা—a দিনগুলো ছিল শান্তিপূর্ণ।


বিরোধী নেতাদের ওপর সন্ত্রাস ও নির্যাতন

জেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতা মামুনুর রশীদ, রাশেদুল আলম সবুজসহ বহু নেতা বারবার গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হন। বিএনপি নেতা মাসুদ রানা প্রধান বলেন, “আমাদের শায়েস্তা করতে মোল্লা নজরুল ইসলাম নামে এক পুলিশ সুপার প্রায় সব নেতা-কর্মীকে জেল-হামলা ও অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে দমন করতেন।”

জামায়াতের বরাবর অভিযোগ, ২৩০টি মামলায় প্রায় ২৫ হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ১৩০টির খালাস হয়েছে, বাকিগুলো এখনও চলমান। এছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও প্রায় ২৫০টি মামলা হয়েছে।


অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড

২০১৩-২০১৬ সালের মধ্যে জেলা ও উপজেলায় বহু অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জামায়াত ও বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, পুলিশি হেফাজতে দীর্ঘদিন আটক, নির্যাতন ও প্রাণহানির প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।

২০১৫ সালে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে বন্দুক ঠেকিয়ে পঙ্গু করে দেওয়া হয়। একই সময়ে শিবিরের অন্যান্য নেতাদের চোখ, পায়ে ইলেক্ট্রিক শক ও মারাত্মক নির্যাতন করা হয়।

২০১২-২০১৩ সালে জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের উপর পুলিশ গুলি চালিয়ে হত্যা ও গুলিবিদ্ধ করা হয়। এসব ঘটনায় অভিযোগ রয়েছে যে আওয়ামী লীগ নেতা ও পুলিশের সিন্ডিকেট সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।


চাঁদাবাজি ও ব্যবসায় দখল

জেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের উপর চাঁদাবাজি চালাত। অনুপস্থিতি বা চাঁদা দিতে না পারলে হামলা, ভাঙচুর ও অমানবিক নির্যাতন ঘটানো হতো। হাতেম শেখের মতো ব্যক্তি চিরপঙ্গুত্ব ও প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগ করে জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য হন।


রাজনৈতিক আধিপত্য ও সিন্ডিকেট

জেলায় একক আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন হুইপ ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্কুল, কলেজ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নদী খনন, হাটবাজার ও সড়ক-সেতুর ওপর সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ ছিল। নির্বাচনে অংশ নিতে হলে তার অনুমতি আবশ্যক ছিল।


নেতারা দাবি করেছেন, এই সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন। জেলায় রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

© 2025 Peoples Bangla | All Rights Reserved.
×