| ভোট সুষ্ঠু না হলে বাতিল করা হবে, প্রধান উপদেষ্টার কাছে এমন ঘোষণা চায় জামায়াত |
🗳️ “নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে বাতিলের ঘোষণা দিন” — প্রধান উপদেষ্টার কাছে জামায়াতের দাবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে তা বাতিল করা হবে— প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে এমন ঘোষণা চেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এ কথা জানান। বৈঠকটি যৌথভাবে আয়োজন করে একশনএইড বাংলাদেশ ও দৈনিক প্রথম আলো।
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতের বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয় বলে জানান আবদুল্লাহ তাহের।
বৈঠকের বিষয় ছিল— ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন: রাজনৈতিক দলের কাছে নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা’। এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।
জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ তাহের বলেন,
“প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় আমরা বলেছি— মূলধারার সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। সেই আলোচনায় সরকারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, আর রাজনৈতিক দলগুলো আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকার করবে। টেলিভিশনে তা প্রচার করা হবে যেন জনগণও আশ্বস্ত হয়। এরপরও যদি নির্বাচন সুষ্ঠু না হয়, তাহলে প্রধান উপদেষ্টা যেন জাতির সামনে ঘোষণা দেন— সেই নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচন দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনে ব্যত্যয় ঘটলে জনগণই সেটির জবাব দেবে।”
অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তাহের বলেন,
“দলগুলো আন্তরিক হলে এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলে অবাধ নির্বাচন সম্ভব। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে যারা জিতবে, তাদের ‘গলায় মালা পরাবে’ জামায়াত।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“গত ৫৪ বছরে দেশের ব্যর্থতার পেছনে সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়াটাই অন্যতম কারণ। তাই এবার অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের আচরণবিধি শুধু বললেই হবে না— বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের ভেতরেও পরিবর্তন আনতে হবে, আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখতে হবে।”
এর আগে দেশের ৯টি জেলায় আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠক থেকে পাওয়া সুপারিশ তুলে ধরেন একশনএইড বাংলাদেশের উইমেন রাইটস লিড মরিয়ম নেছা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির।
আলোচনায় বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও অংশ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক মাহরুখ মহিউদ্দিন, এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত প্রমুখ।
No comments:
Post a Comment