| মাত্র ৫ বছরে দেড় কোটি টাকার সম্পদের মালিক আ.লীগের মেয়র |
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ: সাবেক মেয়র রেজাউল করিম খোকনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক | পিপলস বাংলা নিউজ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মিরসরাই বারইয়ারহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রেজাউল করিম খোকনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য প্রদান–এর অভিযোগে মামলা করেছে।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ থেকে উপসহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন সোমবার (২০ অক্টোবর) মামলাটি দায়ের করেন। কমিশনের অনুমোদনক্রমে দায়ের করা এ মামলায় রেজাউল করিম খোকনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম দুদকের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ।
১১ লাখ টাকার সম্পদ গোপন ও ১.৪৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ
দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, রেজাউল করিম খোকন দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৪১০ টাকার স্থাবর সম্পদ গোপন করেছেন এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ১ কোটি ৪৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৩ টাকার সম্পদ অসাধু উপায়ে অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন।
২০১৯ সালে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
সেই বছরের ৩ এপ্রিল দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এরপর ৬ মে ২০১৯ তিনি দুদকের চট্টগ্রাম-২ কার্যালয়ে সম্পদ বিবরণী জমা দেন।
ওই বিবরণীতে তিনি নিজের নামে ২৮ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮১ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫২ লাখ ৫০ হাজার ১৫৭ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।
কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ে দুদক পায়, তার নামে আসলে রয়েছে ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ১৯১ টাকার স্থাবর সম্পদ, অর্থাৎ তিনি ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৪১০ টাকার সম্পদ গোপন করেছেন।
৫ বছরে ১.৪৩ কোটি টাকার নতুন সম্পদ অর্জন
দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সম্পদ বিবরণী দাখিলের পর মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে রেজাউল করিম খোকন, তার স্ত্রী ও পুত্রের নামে প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন।
জোরারগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিলপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব সম্পদ তার বৈধ আয়–উৎসের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
আয় ও সম্পদের মধ্যে অসঙ্গতি
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, রেজাউল করিম খোকন ২০১০–১১ করবর্ষ থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে আসছেন।
ওই সময় পর্যন্ত ১৫ বছরে তার বৈধ মোট আয় ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৪১২ টাকা।
কিন্তু ওই সময় তিনি ২ কোটি ৪২ লাখ ১০ হাজার ৮৪৮ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। দায় হিসেবে তার ছিল মাত্র ৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
ফলে তার বৈধ উৎসের বাইরে সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৩ টাকা।
তদন্তে অসঙ্গতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ
দুদক বলছে, আসামি তার আয়কর বিবরণী ও কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীর মধ্যে অসঙ্গতি সৃষ্টি করেছেন এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ ভোগদখলে রেখে আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
চট্টগ্রাম কার্যালয়ের যাচাই প্রতিবেদন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর পর ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়।
এরপর উপসহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা আমলে নেওয়া হবে।
দুদক জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তের জন্য উপযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে এবং রেজাউল করিম খোকনের ব্যাংক হিসাব, জমিজমা ও আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
📍 স্থান: চট্টগ্রাম
📅 তারিখ: সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
No comments:
Post a Comment