| অন্তত ২৭ পদ দখল: বিএনপি নয়, এ যেন আ.লীগের কমিটি |
ফরিদপুরে বিএনপির নতুন কমিটিতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উপস্থিতির অভিযোগ
ফরিদপুর প্রতিনিধি | পিপলস বাংলা নিউজ
ফরিদপুর জেলার তিনটি উপজেলা ও পৌরসভার সদ্যঘোষিত বিএনপির কমিটিতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের অন্তত ২৭ জন নেতাকর্মী স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কমপক্ষে ১৫ জন আওয়ামী লীগের পদধারী এবং ১২ জন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে বিএনপির উপজেলা ও পৌর কমিটিতে রাখা হয়েছে।
সূত্র জানায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মিয়া আসাদুজ্জামান (আসাদ মাস্টার) বর্তমানে আওয়ামী লীগের সক্রিয় পদে থাকলেও নতুন উপজেলা বিএনপি কমিটিতে সহ-সভাপতি (১১ নম্বর) হিসেবে রাখা হয়েছে। তিনি ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে টগরবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এছাড়া, আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল ওহাব পান্নু রয়েছেন উপজেলা বিএনপির কমিটিতে ৫ নম্বর সহ-সভাপতি পদে।
উপজেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (মাসুদ মাস্টার) রয়েছেন বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে।
বিএনপির কমিটিতে ২০ নম্বরে সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মনিরুজ্জামান মনি, যিনি গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুর রহমানের হয়ে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
আলফাডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের প্রচার সম্পাদক মো. জাকার মেম্বার নতুন উপজেলা বিএনপি কমিটিতে সহ-সমবায় বিষয়ক সম্পাদক (৭১ নম্বর) পদ পেয়েছেন।
গোপালপুর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওহিদ শিকদার মেম্বারকে উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (২৩ নম্বর) করা হয়েছে।
এছাড়া, আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কদরকে প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাবেক কর্মকর্তা ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়ার আপন শ্যালক নুরুল ইসলাম লিটনকেও উপজেলা বিএনপির ৯৮ নম্বর সদস্য করা হয়েছে।
বোয়ালমারীতে আওয়ামী ঘনিষ্ঠদের পদপ্রাপ্তি
বোয়ালমারী উপজেলার বিএনপি কমিটিতেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।
অমিত সাহা (৩৫)—যিনি অতীতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রহমানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাকে উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে।
একই উপজেলার দাদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি মওলা বিশ্বাসকে উপজেলা বিএনপির ৮১ নম্বর সদস্য এবং যুবলীগের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম বকুলকে উপজেলা বিএনপির সদস্য করা হয়েছে।
এছাড়া, মিজানুর রহমান সোনা মিয়া, যিনি একসময় সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদের ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন, তাকেও উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে।
উপজেলা শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি হরেন কুমার কৃষ্ণ হয়েছেন পৌর বিএনপির ৭৩ নম্বর সদস্য।
সাতৈর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সদস্য গোপাল সাহা হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ।
মধুখালীতেও একই চিত্র
মধুখালী উপজেলা বিএনপির কমিটিতে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃকের ঘনিষ্ঠ নাজমা সুলতানাকে বিএনপির উপজেলা কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে।
এছাড়া, আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী মিলন মোল্লাকে সহ-দপ্তর সম্পাদক,
রায়হান মোল্লাকে পৌর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ,
মিরাজুল ইসলাম মিল্টনকে উপজেলা সহ-সভাপতি এবং
আনোয়ার হোসেনকে উপজেলা বিএনপির সদস্য করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির প্রতিক্রিয়া
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন বলেন,
“কেন্দ্র (সেন্ট্রাল) থেকে আমাদের কাছে ফরওয়ার্ড করে কমিটি জমা দিয়েছে। এজন্য আমরা অতটা যাচাই-বাছাই করার সময় পাইনি। তবে যদি প্রমাণসহ জানা যায় যে, কোনো ব্যক্তি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত, আমরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে অব্যাহতি দেব।”
নেতাকর্মীদের ক্ষোভ
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপির নির্যাতিত ও পদবঞ্চিত নেতারা বিক্ষোভ সমাবেশ, মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
কমিটি অনুমোদনের স্বাক্ষরে লেখা রয়েছে —
“নির্দেশিত হয়ে এই কমিটি অনুমোদন করা হইলো।”
No comments:
Post a Comment