| আ.লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান প্রত্যাখ্যান সিটিজেন ইনিশিয়েটিভের |
📰 আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করল সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে নাগরিক সংগঠন সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ কথা জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে এক যৌথ চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ জানায়, বাংলাদেশে মানবাধিকার সংস্কার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আগ্রহ ও সম্পৃক্ততাকে শ্রদ্ধা জানালেও, তারা স্পষ্টভাবে জানাতে চায় — আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও গুমের মতো ভয়াবহ অপরাধে জড়িত ছিল। তাদের কর্মকাণ্ড পুনরায় চালু করার আহ্বান গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী।
সংগঠনটি আরও জানায়, আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসন শেখ মুজিবুর রহমানের (১৯৭২–১৯৭৫) একদলীয় স্বৈরশাসন থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার (২০০৯–২০২৪) পুলিশি রাষ্ট্রব্যবস্থার ধারাবাহিকতা — যা বাংলাদেশে দমন-পীড়ন ও আতঙ্কের এক নজিরবিহীন যুগ প্রতিষ্ঠা করেছিল।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়,
“হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিচারব্যবস্থাকে বিরোধী মত দমনে ও গণতন্ত্র ধ্বংসে ব্যবহার করা হয়েছে।”
সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ আরও জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে র্যাব ও ডি-জিএফআই-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে — যা আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত। জাতীয় গুম তদন্ত কমিশনের হিসেবে প্রায় ৩,৫০০টি গুমের ঘটনা ঘটেছে।
সংগঠনটির মতে, এমন একটি দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা মানে গণতান্ত্রিক বহুদলীয়তার ভুল অজুহাতে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকারদের নির্যাতনকারীদের সঙ্গে সহাবস্থানে বাধ্য করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,
“ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়— জার্মানির নাৎসি পার্টি ও ইতালির ফ্যাসিস্ট পার্টিকে তাদের নৃশংসতা ও গণতন্ত্র ধ্বংসের অপরাধে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কোনো বিশ্বাসযোগ্য মানবাধিকার কাঠামো বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে এই দলগুলোর পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেয় না।”
সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ জানায়, বাংলাদেশও তার গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের স্বার্থে একই নৈতিক দায়িত্ব পালনে বাধ্য। যারা দেশকে একদলীয় শাসন ও রক্তাক্ত দমননীতির দিকে ঠেলে দিয়েছে, তাদের পুনরায় বৈধতা দেওয়া ইতিহাসের প্রতি অবিচার হবে।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে,
“পূর্ণ জবাবদিহিতা ও বিচার নিশ্চিত না করে আওয়ামী লীগকে পুনরায় বৈধতা দেওয়ার যে কোনো প্রচেষ্টা শহীদ, নিখোঁজ ও নির্যাতিতদের স্মৃতির প্রতি চরম অবমাননা।”
শেষে সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানায় —
“বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিক সামঞ্জস্যের সঙ্গে মূল্যায়ন করুন। বিচার হতে হবে পুনর্মিলনের আগে, কারণ বিচারবিহীন গণতন্ত্র কখনো টিকে না। আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান অবিবেচনাপ্রসূত ও বিপজ্জনক।”
No comments:
Post a Comment