নির্বাচনে বড় জয়ের টার্গেটে জামায়াতের কৌশল - People’s Bangla

People’s Bangla

Voice of the People | জনতার কণ্ঠস্বর

সর্বশেষ

Home Top Ad

Post Top Ad

Thursday, October 16, 2025

নির্বাচনে বড় জয়ের টার্গেটে জামায়াতের কৌশল

নির্বাচনে বড় জয়ের টার্গেটে জামায়াতের কৌশল

জাতীয় নির্বাচনে বড় কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াতে ইসলামী: ইনক্লুসিভ প্রার্থী, আসন সমঝোতা ও ঐক্য প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি জামায়াতে ইসলামী। আওয়ামী স্বৈরশাসনের দীর্ঘ রোষানলে থাকা দলটি জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী সময় থেকে সাংগঠনিকভাবে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত এখন শুধু নিজেদের পরিধিতেই সীমাবদ্ধ নয়— বরং দেশের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের মধ্যেও দলের প্রভাব ও সম্পৃক্ততা বেড়েছে। সাম্প্রতিক জরিপ ও নির্বাচনি ফলাফলেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি এখন সর্বোচ্চ কৌশল ও প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে।


🔹 ইনক্লুসিভ প্রার্থী তালিকা ও আসন সমঝোতা

দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতের হাইকমান্ড নির্বাচনে ‘ইনক্লুসিভ’ প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।
এর আওতায় দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনদের প্রার্থী করা হবে। যোগ্য হলে এমনকি অমুসলিম প্রার্থীদেরও বিবেচনা করা হবে

একইসঙ্গে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন ও সরকার গঠনের লক্ষ্যে ইসলামি ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে
এই প্রক্রিয়ায় জামায়াত সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার নীতিতে কাজ করছে বলে জানা গেছে।


🔹 মাঠে তৎপর প্রার্থীরা ও অভিন্ন আন্দোলন

নিজেদের মতো করে প্রাথমিকভাবে ঘোষিত প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই মাঠে তৎপরতা শুরু করেছেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার দাবিতে জামায়াত বর্তমানে সমমনা সাতটি দলের সঙ্গে অভিন্ন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

দলটি শুধু নির্বাচনে অংশগ্রহণ নয়, বরং জনরায় পেলে সরকার গঠনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে
দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


🔹 ঐক্য ভাঙার চেষ্টা ও কওমি মহলের ভূমিকা

জামায়াতের উদ্যোগে গঠিত সম্ভাব্য ইসলামি জোট প্রক্রিয়া ভেস্তে দিতে একটি মহল সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে ‘আকিদাগত’ পার্থক্যের কথা তুলে হেফাজতে ইসলামের একটি অংশসহ কওমি ধারার কিছু গোষ্ঠী জোটে বাধা দিতে চাইছে।
অন্যদিকে, বিএনপিও অনেক সমমনাদের নিজেদের জোটে টানার চেষ্টা করছে।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তৃণমূলের চাপ ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এই ঐক্যকে ভাঙতে দেবে না।


🔹 পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন

জামায়াত বর্তমানে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন, পিআর পদ্ধতি চালু, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত–সহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছে।
তাদের মূল লক্ষ্য—আগামী নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সংস্কারভিত্তিক হয়


🔹 জনগণের প্রত্যাশা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা

দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলেন, আওয়ামী শাসনের দীর্ঘ জুলুম–নির্যাতনের পর সাধারণ মানুষ এখন রাজনীতিতে পরিবর্তন চায়।
তারা আর গুম, খুন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দেখতে চান না।
এই কারণেই ইসলামি দলগুলোর ঐক্যের মাধ্যমে একটি জনভিত্তিক সরকার গঠনের দাবি জোরদার হচ্ছে।

সাম্প্রতিক জরিপ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভূমিধস বিজয় এই আস্থাকে আরও দৃঢ় করেছে।


🔹 জামায়াতের নির্বাচনি প্রস্তুতি ও সংগঠন পুনরুজ্জীবন

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন,

“সব ইসলামি ও দেশপ্রেমিক কিছু দলের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনি ঐক্য নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা এতে অনেক সম্ভাবনা দেখছি।”

তিনি জানান, আসন সমঝোতায় সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার নীতি নেওয়া হয়েছে।

“ঐক্যের স্বার্থে যতটা সম্ভব সবাইকেই ছাড় দিতে হবে,”—বলেন তিনি।

জনরায় পেলে সরকার গঠনের বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন,

“জনগণ যদি আমাদের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে আল্লাহর রহমতে রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালনা করব, সে বিষয়ে আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।”


🔹 ‘আকিদাগত পার্থক্য’ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া

ঐক্যে বাধা নিয়ে প্রশ্নে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন,

“আকিদাগত পার্থক্যের অভিযোগ প্রথাগত এবং কিছু অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রচার করা হয়। মৌলিকভাবে আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের ধারায়ই বিশ্বাসী।”


🔹 প্রার্থী বাছাই ও মাঠের কাজ

গোলাম পরওয়ার বলেন,

“আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি, সভা–সমাবেশ করছি, রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালনা করব তার রূপরেখা দিচ্ছি।”

প্রার্থী মনোনয়নে বৈচিত্র্য আনতে জামায়াত পরিকল্পনা করেছে,

“যোগ্য হলে সাবেক আমলা, সেনা কর্মকর্তা, বড় আলেম, এমনকি কোনো অমুসলিমকেও প্রার্থী করা হবে।”


🔹 পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ ও ভোট পাহারা

সূত্র জানায়, আসন্ন নির্বাচনের জন্য জামায়াত নারী–পুরুষ পোলিং এজেন্ট তৈরি করছে, যাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে ভোটকেন্দ্র পরিচালনা ও নিরাপত্তার বিষয়ে।
ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম বা দখল ঠেকাতে দলটি তৎপর থাকবে

দলীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা–১৫ নির্বাচনি গণসংযোগে বলেন,

“আমরা চাই ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক। কিন্তু কেউ যদি ভোট ডাকাতি করতে আসে, তার হাত ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”


🔹 ইসলামি ও সমমনাদের ঐক্য: সাত দলের নিকটবর্তী সম্পর্ক

জামায়াত বর্তমানে যে সাত দলের সঙ্গে আন্দোলন করছে তারা হলো—
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)জামায়াতে ইসলামী

এছাড়া এবি পার্টি, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদসহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
যদিও তারা এখনও নির্বাচনি জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি


🔹 জোটের সম্ভাবনা ও আসন সমঝোতা

ইসলামী আন্দোলন জানিয়েছে, তারা আসনভিত্তিক সমঝোতা করে ভোট করতে আগ্রহী।
খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টিজাগপাও একই ইঙ্গিত দিয়েছে।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন,

“আমরা আপাতত সাত দলের আন্দোলনে আছি। তবে তৃণমূলের মতামত শুনে নির্বাচনি জোট নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।”

জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন,

“সাত দলের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া গড়ে উঠেছে। এটা নির্বাচনি জোটে রূপ নেবে, ইনশাআল্লাহ।”

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

© 2025 Peoples Bangla | All Rights Reserved.
×