| হাসিনাসহ অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি ডাকসু-জাকসুর |
📰 গুম-খুনের মাস্টারমাইন্ড শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের
গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংশ্লিষ্ট সামরিক জেনারেলদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।
অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) এক বিবৃতিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী অপরাধে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।
📢 গুম কমিশনের তথ্য শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ
শনিবার গুম কমিশনের প্রকাশিত তথ্য ও প্রামাণ্যচিত্র নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করেন সাদিক কায়েম।
তিনি অভিযোগ করেন,
“গত পনেরো বছরের দুঃশাসনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় এখনো ষড়যন্ত্র চলছে।”
🗣️ “অপরাধীদের বিচার এড়ানো যাবে না” — ডাকসু ভিপি
ডাকসু থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাদিক কায়েম বলেন,
“গুম, খুন, ধর্ষণসহ রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার করে সংঘটিত সব অপরাধের বিচার কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না।
যারা এসব জঘন্য অপরাধে জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা পেশাগত অবস্থান যাই হোক না কেন, অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“গত পনেরো বছরে রাষ্ট্রের সামরিক ও বেসামরিক কাঠামোকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।”
গুম হওয়া রাজনৈতিক নেতাদের পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,
“ওয়ালীউল্লাহ, আল মুকাদ্দাস, ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার এখনো ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় দিন কাটাচ্ছেন। অথচ এসব অপরাধে জড়িতদের বিচার প্রক্রিয়ায় এখন নানা ষড়যন্ত্র চলছে।”
🚨 “অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রসমাজ শান্ত থাকবে না”
সাদিক কায়েম আরও বলেন,
“যে কোনো পরিচয়ের খুনি, ধর্ষক বা গুমকারী—তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রসমাজ শান্ত থাকবে না। অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
🏛️ জাকসুর বিবৃতি: “ফ্যাসিবাদী শাসন ও মাফিয়াতন্ত্রের অবসান চাই”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
“আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযুক্ত কয়েকজন সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি, যা বিচার নিশ্চিতকরণে আশঙ্কা তৈরি করছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে,
“ডিজিএফআই, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তারা শেখ হাসিনার নির্দেশে এসব মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন। এই অপরাধের দায় থেকে শেখ হাসিনা ও তার ফ্যাসিবাদী প্রশাসন কোনোভাবেই মুক্ত নয়।”
⚖️ “রাষ্ট্রীয় কাঠামো ব্যবহার করে গঠিত হয়েছিল মাফিয়াতন্ত্র”
জাকসুর বিবৃতিতে বলা হয়,
“ফ্যাসিবাদের সময়ে পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ব্যবহার করে দেশে একটি মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করা হয়েছিল। চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, খুন—সবকিছুই রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনীর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে সংঘটিত হয়।”
“যারা স্পষ্টত অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের সঠিক বিচার নিশ্চিত না করতে পারলে আমরা ইনসাফের পথে ব্যর্থ হবো, এবং তা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহারের পথ পুনরায় খুলে দেবে।”
No comments:
Post a Comment