| সরকারের ব্যর্থতায় দাবি আদায়ের আন্দোলন হচ্ছে: রফিকুল ইসলাম খান |
অন্তর্বর্তী সরকার অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ: মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জাতির কাছে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হয়েছে— এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
“অভ্যুত্থানের পরও রাজপথে নামতে হচ্ছে, এটা দুঃখজনক”
রফিকুল ইসলাম খান বলেন,
“জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পরও আমাদেরকে দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে হবে— এটা আশা করিনি। কারণ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ড. ইউনূস প্রথম ভাষণে মৌলিক সংস্কার ও গণহত্যার বিচারের অঙ্গীকার করেছিলেন। সে অনুযায়ী ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে লাখ-কোটি টাকা ব্যয় করে কাজের পর জুলাই সনদে স্বাক্ষর হয়েছে। তারপরও আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে, এ সরকারের ব্যর্থতার কারণে।”
“সরকার জনগণের প্রতিষ্ঠিত, দলীয় নয়”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকার কোনো দলীয় বা নির্বাচিত সরকার নয়। গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণই তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে। তারা কোনো দলের পক্ষে কাজ করবে— এটা জনগণ আশা করে না। অথচ প্রায় সব দল একমত হলেও একটি দলের কারণে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হচ্ছে, যা জাতি মেনে নেবে না।”
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে রফিকুল ইসলাম বলেন,
“জনগণ ভোট দিলে সরকারে যাবেন, কিন্তু ভোটের আগেই সরকার সরকার ভাব জনগণ মানবে না। ছাত্রদের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যেভাবে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়েছে, প্রয়োজনে আবারো ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়বে। এদেশ কারো বাপের নয়— এদেশ কীভাবে চলবে তা ঠিক করবে জনগণ।”
তিনি আগামী নির্বাচনে “নীরব ভোট বিপ্লব” ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন জামায়াত নেতা
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান অবিলম্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে গণভোট আয়োজন করার।
তিনি পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেন—
১️⃣ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা।
২️⃣ নভেম্বরে গণভোট আয়োজন।
৩️⃣ জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা।
৪️⃣ অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
৫️⃣ ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম, নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির ও ঢাকা–৮ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।
এতে আরও বক্তব্য দেন—
- মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ,
- সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন,
- ড. আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় ও কাকরাইল এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
📅 তারিখ: সোমবার, ২০ অক্টোবর
📍 স্থান: বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট, ঢাকা
No comments:
Post a Comment