| রাবি ছাত্রদলের ১১ সদস্যের কমিটির ৬ নেতারই ছাত্রত্ব নেই |
চার বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা: ছাত্রত্ব নিয়ে বিতর্ক
চার বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের আংশিক নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে ঘোষিত এই ১১ সদস্যের কমিটির বেশিরভাগ সদস্যের ছাত্রত্ব নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র চলমান স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাই ‘নিয়মিত ছাত্র’ হিসেবে বিবেচিত হন। অথচ এই কমিটির ৬ জনেরই ছাত্রত্ব নেই, তারা কেউ ভাষা কোর্সে, কেউ সান্ধ্যকালীন মাস্টার্সে অথবা এমফিলে নামমাত্র ভর্তি হয়েছেন।
নেতাদের পরিচয় ঘিরে প্রশ্ন
কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সুলতান আহমেদ রাহী, যিনি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বর্তমানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে সান্ধ্য মাস্টার্সে পড়ছেন বলে দাবি করলেও বিভাগীয় সূত্র বলছে, তিনি কখনোই ভর্তি সম্পন্ন করেননি।
নতুন সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে তিনি ভাষাশিক্ষার স্বল্পমেয়াদি কোর্সে ভর্তি হয়েছেন— ঠিক কমিটি ঘোষণার দিনই।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে কেউ কেউ ২০১২ থেকে ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে কেউই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন।
ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র কি বলছে?
ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিক এবং অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাই ছাত্রদলের সদস্য হতে পারবেন। অথচ সদ্যঘোষিত কমিটির বেশিরভাগ নেতারই ছাত্রত্ব নেই, যা এই নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন বলেন, “সান্ধ্য কোর্স বা ভাষা শিক্ষা কোর্সে ভর্তি থাকা ছাত্রদের নিয়মিত শিক্ষার্থী বলা যায় না। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সুযোগ-সুবিধাও পান না।”
কারা নিয়মিত শিক্ষার্থী?
কমিটিতে অন্তত ৪ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
- সহ-সভাপতি জান্নাতুন নাঈম (লোকপ্রশাসন, ২০১৯-২০)
- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস (সংগীত, ২০২০-২১)
- দপ্তর সম্পাদক নাফিউল জীবন (আরবি, ২০১৭-১৮)
- সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু (ছাত্রত্ব পুনরুদ্ধার করেছেন মানবিক কারণ দেখিয়ে)
এছাড়া এমফিলে ভর্তি হয়েছেন জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ, যিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
কমিটিতে জায়গা না পাওয়া এক পদপ্রত্যাশী নেতা বলেন, “এই কমিটি নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অনেক ত্যাগী, নিয়মিত নেতাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “কমিটির সভাপতি রাহীর নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এমন কমিটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।”
নবনির্বাচিত সভাপতির ব্যাখ্যা
নতুন সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “কমিটিতে অনেকে সান্ধ্য, এমফিল বা শর্ট কোর্সে ভর্তি থাকলেও তাদের ছাত্রত্ব রয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের দমন-পীড়নের কারণে তারা সময়মতো পরীক্ষা দিতে পারেনি। সকলেই দলের দুর্দিনে কাজ করেছে।”
তিনি আশ্বস্ত করেন, “পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময় নিয়মিত শিক্ষার্থীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
No comments:
Post a Comment