| ফিরে দেখা ২৬ জুলাই: ৩ সমন্বয়ককে হাসপাতাল থেকে তুলে নেয় ডিবি |
📰 কোটা আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক আবারও ডিবি হেফাজতে, চলমান সহিংসতায় গ্রেফতার ৬ হাজার ছাড়াল
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেই ফের আলোচনায় উঠে এসেছে আন্দোলনের তিন শীর্ষ সমন্বয়ক—নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও আবু বাকের মজুমদার। ২৬ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে তাদের তুলে নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবির তরফে জানানো হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে তিন আন্দোলনকারীকেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সহিংসতা ইন্ধনে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এর আগে, ১৯ জুলাইও এই তিনজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে তাদের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফেলে যাওয়া হয় এবং তারা গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
🔥 সহিংসতার পেছনে কারা? প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে
২৬ জুলাই রাতেই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের জানান, সমন্বয়কারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন, কারা যেন তাদের হুমকি দিয়েছিল—এজন্যই তাদের ডিবিতে রাখা হয়েছে।
তবে কোটা আন্দোলন ঘিরে এই দিনেও সারাদেশে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও সাঁড়াশি গ্রেফতার অভিযান চলে। গত ১০ দিনে (১৭–২৬ জুলাই) সারা দেশে গ্রেফতার হয়েছে মোট ৬,২৬৪ জন। শুধু ২৬ জুলাই রাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয় ৭৬৫ জন। ঢাকায় এই সময় গ্রেফতার হয়েছে ২০৭ জন। ঢাকায় মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৯টি।
🕊️ নিহত সাঈদের পরিবারকে সহায়তা, আন্দোলনে নতুন শহীদের মৃত্যু
কোটা আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের পরিবারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ৭.৫ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। একইদিন আরও তিন আন্দোলনকারী আহত অবস্থায় মারা গেছেন।
এদিন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নাম দেন ‘শহীদ রুদ্র তোরণ’।
🇺🇳 আন্তর্জাতিক উদ্বেগ, রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া
এই সহিংস পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ এমপি ড. রুপা হক পার্লামেন্টে বাংলাদেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিন ঢামেক হাসপাতালে গিয়ে আহতদের দেখতে যান এবং তাদের চিকিৎসা ও আয়ের দায়িত্ব নেবে বলে ঘোষণা দেন। এছাড়া রামপুরায় বিটিভি ভবনে হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তিনি।
🗣️ নাগরিক সমাজ ও সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া
- টিআইবি বলেছে: “ভিন্নমত ও দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অপরাধ নয়, এটি সাংবিধানিক অধিকার।”
- সুজন বলেছে: “প্রত্যেকটি প্রাণহানির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই, গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ হোক।”
- বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি: “সহিংসতার পেছনে যাঁরা, তাদের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
- কানাডা বলেছে: “ছাত্র আন্দোলনের সহিংসতায় জনগণ যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা উদ্বেগজনক।”
No comments:
Post a Comment