| টয়লেটসহ বাথরুমে ওজু করা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে জায়েজ কী? |
একসঙ্গে থাকা বাথরুমে অজু করা কি ইসলামসম্মত? কী বলছে শরিয়াহ?
বর্তমানে অনেক বাসাবাড়িতে টয়লেট ও গোসলের জায়গা একই বাথরুমে থাকে। এমন ক্ষেত্রে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এই জায়গায় অজু করা কি ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ? আর যদি বৈধ হয়, সেখানে অজুর সময় দোয়া পড়া যাবে কি না?
শরিয়াহর দৃষ্টিতে আদর্শ ব্যবস্থা
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, টয়লেট এবং গোসলখানা আলাদা হওয়াই উত্তম। টয়লেট হলো প্রাকৃতিক প্রয়োজনের স্থান এবং গোসলখানা পবিত্রতা অর্জনের স্থান। তাই শরিয়াহর আদব অনুসারে অজুর জন্যও আলাদা স্থান নির্ধারণ করা উত্তম। নিজস্ব বাড়ি নির্মাণের সময় এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখা সহজ হলেও, ভাড়া বাসায় এমন ব্যবস্থা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না।
একই বাথরুমে অজু: বৈধতা ও সীমাবদ্ধতা
যদি গোসলখানা ও টয়লেট একই জায়গায় থাকে, তবে সেই স্থানে নাপাকি না ছড়ায় এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে—তাহলে সেখানে অজু করা জায়েজ। তবে টয়লেটের অংশে না দাঁড়িয়ে অন্য পাশ থেকে অজু করাই উত্তম। এই অবস্থায় মহান আল্লাহ বান্দার নিয়ত ও সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে ক্ষমা করে দেন।
অজুর দোয়া পাঠ করা যাবে?
হাদিস অনুযায়ী অজুর শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা একটি সুন্নাত। কিন্তু যেহেতু টয়লেট নাপাক স্থান, সেখানে মুখে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা আদববিরুদ্ধ। তাই ফিকাহবিদরা বলেন—একই বাথরুমে থাকলে দোয়া মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে পড়া উচিত। আর সম্ভব হলে বাথরুমে প্রবেশের আগে বাইরে থেকেই ‘বিসমিল্লাহ’ বলা ভালো।
সমাধান কী হতে পারে?
১. যদি সম্ভব হয়, বাথরুমের মধ্যে একটি পার্টিশন বা আড়াল তৈরি করা।
২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা।
৩. দোয়া ও যিকির মনে মনে পাঠ করা।
৪. স্বতন্ত্র ও পবিত্র স্থানে অজু করার চেষ্টা করা।
শেষ কথা
বর্তমান সময়ে বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকের বাসায় গোসল ও টয়লেট একত্রে থাকাই স্বাভাবিক। ইসলাম একটি বাস্তবধর্ম—এমন পরিবেশেও শরিয়াহর সীমারেখা মেনে চলা সম্ভব। অজু করা জায়েজ হলেও দোয়ার সময় মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে পাঠ করাই অধিক নিরাপদ ও সম্মানজনক।
No comments:
Post a Comment