| বরিশালে বিএনপি নেতাদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি |
বরিশালের দুই প্রধান বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে বিএনপির শীর্ষ নেতারা, প্রতিদিন লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
বরিশাল মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ দুই বাসস্ট্যান্ড—নথুল্লাবাদ ও রুপাতলী—বর্তমানে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রতিদিন এসব বাসস্ট্যান্ড থেকে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটে শত শত বাস চলাচল করে। এক সময় এটির নিয়ন্ত্রণ ছিল যুবলীগ নেতা অসীম দেওয়ানের হাতে, কিন্তু ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বর্তমানে এ বাসস্ট্যান্ডটি নিয়ন্ত্রণ করছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ারের ভাই মোশারফ হোসেন। তার নেতৃত্বে একটি বড় গ্রুপ প্রতিদিন চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডের বিষয়েও একই রকম অভিযোগ পাওয়া গেছে। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার নিজেই শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি গঠন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠজনদের নেতৃত্বে প্রতিটি গাড়ি থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
বাস মালিক ও শ্রমিকদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করে জানান, এসব স্ট্যান্ডে পার্কিং ফি, কাউন্টার চার্জ, গাড়ি ছাড়ার অনুমতি, দূরপাল্লার যাত্রাবাহী বাস থেকে চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে প্রতিদিন বড় অঙ্কের টাকা ওঠানো হচ্ছে। চাঁদার টাকায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতারা লাভবান হচ্ছেন বলে অভিযোগ।
বিএনপির একাধিক নেত্রীও সরাসরি এই দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিন অভিযোগ করেন, রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডে তার সদস্য পদ পাওয়ার আবেদনপত্র গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “জিয়াউদ্দিন সিকদার শুধু বাসস্ট্যান্ড নয়, বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনাও দখলে রেখেছেন। মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিনিময়ে টাকার লেনদেনও হয়েছে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে জিয়াউদ্দিন সিকদার দাবি করেন, “এসব মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নই।”
স্থানীয়ভাবে এই চাঁদা আদায় ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় কেন্দ্রীয়ভাবে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
No comments:
Post a Comment