| বকেয়া আট হাজার কোটি টাকা, চট্টগ্রামে কয়লা খালাস বন্ধ চার জাহাজে |
চট্টগ্রাম বন্দরে কয়লা খালাসে অচলাবস্থা, বিদ্যুৎ প্রকল্পে জটিলতা
চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা কয়লা খালাসে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (পিডিবি) প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে পটুয়াখালীর পায়রা কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া থেকে পায়রা প্রকল্পের জন্য আমদানি করা দুই লাখ ৩২ হাজার টন কয়লা নিয়ে চারটি বড় জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করলেও, খালাস কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি। বার্থিং তথ্য অনুযায়ী, এসব জাহাজের নাম—
- এমভি কারমেনসিটা (৫৭,২৭০ টন)
- এমভি বিগ গ্লোরি (৬০,০০০ টন)
- এমভি ক্লারা (৫৫,১০০ টন)
- এমভি থিয়োডরি ভেনিয়ামিস (৬০,০০০ টন)
এর মধ্যে কেউ কেউ ১৮ দিন ধরে বন্দরে অপেক্ষমাণ। এই সময় প্রতিদিন প্রতিটি জাহাজকে গড়ে ৬০ হাজার ডলার করে ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে, যা এখন পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫.৫ লাখ ডলার (সাড়ে ৬ কোটি টাকা)—এই ব্যয় বাংলাদেশকেই বহন করতে হবে।
পিডিবির বকেয়ায় জর্জরিত বিসিপিসিএল
বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালনাকারী বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) জানিয়েছে, পিডিবিকে একাধিকবার অর্থ পরিশোধের জন্য তাগাদা দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
- শুধু লাইটার জাহাজ মালিকদের কাছেই বকেয়া রয়েছে প্রায় ৭২ কোটি টাকা।
- দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা।
এ অবস্থায় লাইটার জাহাজের মালিকরাও নতুন করে জাহাজ দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে কয়লা খালাস কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। আগামী সপ্তাহে আরও তিনটি কয়লাবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা রয়েছে, যা এই জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
পিডিবির চেয়ারম্যান জানেন না?
পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানিয়েছেন, অর্থ সংকটের কারণে নিয়মিতভাবে অর্থ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে জরুরি প্রয়োজন হলে কিছু পরিমাণ অর্থ অনুমোদন করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরে কয়লা খালাস বন্ধ—এ বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানিয়েছেন।
তবে বিসিপিসিএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত পিডিবিকে সব তথ্য জানানো হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নিজেই বোর্ডের পরিচালক হওয়ায় আলাদা চিঠির প্রয়োজন হয় না। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ছয় মাসের ঋণচুক্তিতে কয়লা পাঠাচ্ছে, যদিও সময়মতো অর্থ না পেলে তারা যে কোনো সময় সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে।
বিসিপিসিএলের হিসাব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোয়াল্লেম হোসেন জানিয়েছেন, সর্বশেষ জুলাই মাসে ৩০০ কোটি টাকা দেওয়া হলেও মোট বকেয়া ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা দিয়ে বর্তমান জাহাজ খালাসের ব্যয় মেটানো সম্ভব নয়।
বিপদে বিদ্যুৎ প্রকল্প ও দেশ
শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন জানান, বড় জাহাজগুলোর দৈনিক খরচ বেশি হওয়ায় ক্ষতিপূরণও দ্রুত বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদি এই সমস্যার সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে অর্থ ছাড় ও আন্তঃপ্রতিষ্ঠান সমন্বয় প্রয়োজন। অন্যথায় দেশের অন্যতম বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প জ্বালানি সংকটে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে সারাদেশে।
No comments:
Post a Comment