| উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চায় ৭১ শতাংশ মানুষ |
জনগণ চায় জাতীয় সংসদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার
ঢাকা: সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, দেশের মানুষের বড় অংশই জাতীয় সংসদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা এবং সংখ্যানুপাতিক (PR) পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন চায়। জরিপে ৬৯ শতাংশ মানুষ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ পছন্দ করছেন, আর ৭১ শতাংশ মানুষ উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব চান।
এক ব্যক্তি একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, দলীয় প্রধান ও সংসদনেতা হতে পারবে না—এমন প্রস্তাবের সঙ্গে ৮৭ শতাংশ মানুষ একমত। এছাড়া এক ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবে না—এতে একমত হয়েছেন ৮৯ শতাংশ।
সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জনগণের মতামতও স্পষ্ট। রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতির পরিবর্তন চান ৯০ শতাংশ মানুষ। ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে নারী আসন সংরক্ষণের পক্ষে ৬৩ শতাংশ, আর উচ্চকক্ষে ৩০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণের পক্ষে ৬৯ শতাংশ। বিরোধী দলের থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন ৮৬ শতাংশ (নিম্নকক্ষ) এবং ৮২ শতাংশ (উচ্চকক্ষ)।
দুদক, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন এবং প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকার কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ৯০ শতাংশ মানুষ। জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (NCC) গঠন করে সকল সাংবিধানিক পদ ও তিন বাহিনীর প্রধান নিয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন ৮০ শতাংশ। মৌলিক অধিকারের পরিধি বাড়ানোর পক্ষে ৮৮ শতাংশ, এবং মৌলিক অধিকারকে শর্তহীন করার পক্ষে ৮৪ শতাংশ মানুষ একমত হয়েছেন।
নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কার্যক্রম গ্রহণে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন ৮৭ শতাংশ। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পক্ষে মত দিয়েছেন ৮৬ শতাংশ। নির্বাচনি ব্যয় নিরীক্ষণ এবং অসত্য তথ্য প্রদানকারীদের প্রার্থিতা বাতিল করার পক্ষে ৮৮ শতাংশ মানুষ। ৯২ শতাংশ মানুষ মনে করেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দুর্নীতিগ্রস্ত ও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দলের সদস্য হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত।
সংস্কারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকেও জনমতের সমর্থন রয়েছে। দলনিরপেক্ষ সরকার গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন ৮৩ শতাংশ। সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন, এতে একমত ৮৫ শতাংশ। দলের নিবন্ধন নবায়ন, ব্যাংকিং চ্যানেলের আর্থিক লেনদেন ও অডিট হিসাব প্রকাশের পক্ষে যথাক্রমে ৭৬ ও ৯১ শতাংশ।
স্থায়ী স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন ৯০ শতাংশ মানুষ। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকারকে স্বায়ত্তশাসন প্রদানের, দক্ষ পেশাজীবী নিয়োগ ও উপজেলা পর্যায়ে আদালত স্থাপনের পক্ষে যথাক্রমে ৮৮, ৮৪, ৮৫ ও ৮১ শতাংশ।
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার জানিয়েছেন, “এই জরিপ প্রমাণ করে, জনগণ সংস্কারের পক্ষে। বিদ্যমান প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠান বর্তমান ক্ষমতাসীনকে স্বৈরাচারী হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। জনগণ চাই—গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে পদ্ধতি, প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানের আমূল সংস্কার আবশ্যক।”
No comments:
Post a Comment