| আদালত অবমাননার দায়ে হাসিনার ছয় মাসের সাজা, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ |
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ: ভিকটিম, সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তাকে হুমকি বিচার বাধাগ্রস্তের শামিল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলেছে, ভিকটিম, সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার শামিল। আদালত অবমাননার মামলায় শেখ হাসিনার ছয় মাসের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।
শনিবার প্রসিকিউশন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, রায়ের অনুলিপি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর পাঠানো হয়েছে। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বিষয়টি গণমাধ্যমে জানান।
এর আগে গত ২ জুলাই আদালত অবমাননার অভিযোগে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশত্যাগী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শাকিল আকন্দ বুলবুলকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগে বলা হয়, তারা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেছেন।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক চৌধুরী। রায়ে বলা হয়েছে, আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বা গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে সাজা কার্যকর হবে।
এটি বাংলাদেশের কোনো আদালতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া প্রথম সাজার রায় এবং পটপরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম সাজার ঘটনা।
মামলায় শেখ হাসিনা ও শাকিলের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন শুনানি করেন, অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান। প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর জোহা।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুন আদালত অবমাননা মামলার বিচারের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল। মামলার সূত্রপাত হয় অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার একটি অডিও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে, যেখানে তিনি বলেছেন বলে অভিযোগ– "২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি"।
No comments:
Post a Comment